নিজস্ব প্রতিবেদক: সস্তা রাজনীতি কিংবা স্রেফ হাততালি পাওয়ার আশায় নয়, বরং আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর পর পরবর্তী প্রজন্ম যেন সুন্দর ও নিরাপদ একটি উপজেলা পায়, সেই লক্ষ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরকে ঘিরে মেগা মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় রোধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন সেতু ও বিকল্প সড়ক।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের সোমেশ্বরী হলে আয়োজিত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), নেত্রকোনার যৌথ আয়োজনে “বাঁধ নির্মাণ ও নদী ভাঙন প্রতিরক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবো কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “অপরিণামদর্শী ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দুর্গাপুরে আজ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে ভবিষ্যতে বালু উত্তোলন করা হলেও তা হবে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত। জনজীবন ও পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি জানান, বালু পরিবহনের জন্য শহর এড়িয়ে নদীর নাব্যতা বিবেচনা করে আটটি সুনির্দিষ্ট স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরের ওপর দিয়ে বালুর ট্রাক যাতায়াত বন্ধ করে বিকল্প পথে তা পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।
দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “বর্তমানে যে কাঠের সেতুটি রয়েছে, তার ওপর দিয়েই একটি দৃষ্টিনন্দন স্টিলের সেতু নির্মাণ করা হবে। এ সেতুটি হবে সম্পূর্ণ ‘ওয়াকওয়ে’ বা পথচারী পারাপারের জন্য। এর ফলে শিবগঞ্জ ঘাট ও টেরি বাজারের দিক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে।”
পাশাপাশি সীমান্ত সড়ক (বর্ডার রোড), চৈতাটি ঘাট এবং ধোবাউড়া অংশে নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এসব ব্রিজ চালু হলে বালু পরিবহনের জন্য একাধিক বিকল্প পথ তৈরি হবে, যা শহরের যানজট ও দুর্ভোগ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে।
ডেপুটি স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আজ যে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হলো, তা চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দেওয়া মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা করে মহাপরিকল্পনাটি সংশোধন ও চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সেবক হিসেবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে দুর্গাপুরকে আমরা বাংলাদেশের বুকে অনন্য মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতার প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, “দয়া করে আগামী ৫ বছরের জন্য সামান্য কিছু টাকা আয়ের চিন্তায় মগ্ন থাকবেন না। আপনার সন্তান কীভাবে সুন্দর দুর্গাপুর পাবে, সেই চিন্তা করুন। অনেকেই সাময়িক আয়ের চিন্তা করেছেন, সেই টাকা কেউ ভোগ করে যেতে পারেননি। আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য একটাই- আগামীর সুন্দর দুর্গাপুর।”
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, সাংবাদিক এবং দুর্গাপুরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী সমাধানের রূপরেখা পেয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

