নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় এখন বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম। কৃষকের গোলায় নতুন ধান ওঠার আনন্দে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা। একদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকিতে পাওয়া কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের রহস্যজনক ‘অপ্রাপ্যতা’- এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

মাঠে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও কাটার কোনো উপায় পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষককে বুকসমান পানিতে নেমে সনাতন পদ্ধতিতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ধান কাটতে দেখা গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। এত চড়া দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক জুটছে না। ফলে সময়মতো জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন চাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টির আগে ধান কাটতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টায় সরকারিভাবে ২৫টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলে ৭০ শতাংশ এবং সমতল এলাকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এসব মেশিন কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলাতে ২৫টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন রয়েছে এতথ্য নিশ্চিত করেন বারহাট্টা উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. জিনিয়া জামান।

কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কৃষকদের অভিযোগ, চরম প্রয়োজনের এ সময়ে মাঠে একটি মেশিনেরও দেখা মিলছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, কাগজে-কলমে মেশিনগুলো বারহাট্টায় দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো এখানে নেই। বেশি লাভের আশায় কিছু মেশিনের মালিক সেগুলো ভাটি অঞ্চলে (নিচু এলাকায়) ধান কাটতে নিয়ে গেছেন। এমনকি কিছু মেশিন গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার স্থানীয় কৃষক হারের মিয়া হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “মাঠে ধান পেকে গেছে, কিন্তু কাটার জন্য কোনো উপায় নেই। শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছি না, আর যে দুই-একজন পাওয়া যায় তারা অনেক বেশি টাকা চায়। সরকার নাকি মেশিন দিয়েছে, কিন্তু আমরা তো এই এলাকায় কোনো মেশিনই দেখতে পাচ্ছি না। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে ওঠে। হারভেস্টার মেশিনগুলোর বর্তমান অবস্থান এবং সেগুলো কোথায় ব্যবহার হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি শারমিন সুলতানা তাৎক্ষণিক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা ‘কয়েকদিন সময় লাগবে’ বলে জানান, যা কৃষকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের বিশাল অংকের বিনিয়োগ ও ভর্তুকি তখনই সার্থক হবে, যখন প্রান্তিক কৃষক সঠিক সময়ে এর সুবিধা পাবেন। প্রয়োজনের সময় যদি যন্ত্রপাতি মাঠে না-ই থাকে, তবে সরকারের এই মহতী উদ্যোগ পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি ভর্তুকির মেশিনগুলোর প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। একইসঙ্গে, মেশিনগুলো অবিলম্বে বারহাট্টার কৃষকদের ধান কাটার জন্য মাঠে ফিরিয়ে এনে সহজলভ্য করার জোর দাবি উঠেছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version