প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বাড়াতে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু করবে।

আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন এবং এরমধ্যে চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ সরকার শুরু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট যে শিক্ষকবৃন্দ আছেন তাদেরকেও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।’

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘বেসরকারি স্কুল পরিচালনায় সরকারের একটি নীতিমালা রয়েছে।’

গত ১০ এপ্রিল সংসদ মুলতবির পর বুধবার সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুয়ায়ী প্রথমে ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে ব্লু ইকোনমির বিষয়ে একটি কমবেশি ডিটেইল পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী সমুদ্র অঞ্চলগুলোতে বাস করছে। যেমন- ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী,কক্সবাজার, চট্টগ্রাম। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা যদি এই ব্লু ইকোনমির আওতাধীন বিষয়গুলোকে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিক সম্ভব্যতা বিবেচনা করে সঠিকভাবে  গড়ে তুলতে পারি, তাহলে অবশ্যই বহু মানুষের জীবনযাত্রার মান আমরা পাল্টাতে সক্ষম হব। এই সকল বিষয় বিবেচনা করেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্লু ইকোনমি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছি এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এরই ভিতরে ধীরে ধীরে এ বিষয়ে নানা পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করা শুরু করেছে।’

নদী ভাঙ্গন প্রসঙ্গে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার এলাকার যে সমস্যার (নদী ভাঙ্গন) কথা বলেছেন সেটি শুধু আপনার এলাকার সমস্যা নয় বাংলাদেশের বহু অঞ্চলের, বহু মানুষের সমস্যা।

তিনি বলেন, ‘এই সমস্যাটা একদিনের নয়। আপনি যেহেতু পটুয়াখালি অঞ্চলের মানুষ ওই অঞ্চলে বেড়ে উঠেছেন আপনার নিশ্চিত ধারণা আছে কিভাবে এই সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- নদী শাসন। এই বিষয়টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তারপরেও প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদেরকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। এই নদী ভাঙ্গনগুলো কখন হয়? আমরা দেখেছি,অধিকাংশ বর্ষার সময় হয়ে থাকে যখন নদীতে স্রোত থাকে এবং হঠাৎ করে পানির প্রবাহ যখন বেড়ে যায়। সেই জন্যই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই সমস্যাটিকে সমাধানের জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন নদী ভাঙ্গনকে ট্যাকেল করতে চাইছে। অন্যদিকে আমাদের শুষ্ক মৌসুমে পানির যে সমস্যা হয়ে থাকে আমরা সেই সমস্যার সমাধান করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু গ্রামাঞ্চলে আপনি বেড়ে উঠেছেন অনেক সময় এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে বর্ষাকালেও কৃষক পানি পায় না, বর্ষার সময় তাকে পানির জন্য কষ্ট করতে হয়। সেজন্য আমাদের সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য খাল খনন একটি অত্যন্ত জরুরি প্রকল্প।’

‘আরেকটি ধারণা আছে, আমাদের ভূগর্ভস্থ যে পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে।   বিশেষ করে ঢাকা শহরে এই সমস্যাটি আছে এবং গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে। এই সবগুলো বিষয়কে যদি আমরা এড্রেস করতে চাই, তাহলে অবশ্যই নদী শাসন প্রয়োজন। অন্যদিকে, নদীতে যখন পানির প্রবাহ বেড়ে যায়, স্রোত বেড়ে যায়, তখন নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রণের আনতে খাল খনন কর্মসূচিটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই এবং পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বেসামরিক বিমান, পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পর্যটন, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নকে বিশেষভাবে আমরা গুরুত্ব দিতে চাইছি। এখানে আমি একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাইছি। আমি একবার কুয়াকাটায় গিয়েছিলাম এবং সেই স্মৃতিটি আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে। স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের প্রতি আমার একটি দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার পতঙ্গা আনোয়ারা সি বিচের মৌলিক সুবিধারী উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের নিমিত্তে এর ভেতরেই সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক কুয়াকাটা সংলগ্ন সাতটি উপজেলা কলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা আমতলি এবং তালতলি নিয়ে পায়রা কুয়াকাটা কম্প্রেহেন্সিভ প্ল্যান ফোকাসিং অন ইকোটুরিজম শীর্ষ গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানের পর্যটনের অংশটুকু বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। এটি চূড়ান্ত হলে কলাপাড়া উপজেলাস্থ কুয়াকাটার পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি।’

সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে কুয়াঘাটায় বিমান বন্দর করা যাবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরের বিষয়টি হচ্ছে- এটিতো স্বাভাবিক অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত। বিমানের ফ্লাইট অবশ্যই পরিচালনা সেখানে করা হয়ত যাবে কিন্তু সেটি যদি লস হয় তাহলে তো পাবলিকের পকেট থেকে পয়সাটা যাবে। কাজেই সেটি বোধ হয় বিজনেস ওয়াইজ খুব একটা ভালো হবে না।’

‘তবে কোন প্রাইভেট কোম্পানি যদি সেখানে ফ্লাইট অপারেট করতে চায় আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে তাকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা যতটুকু সম্ভব তৈরি করে দেওয়ার জন ্যচেষ্টা করব। তবে অবশ্যই যাচাই বাছাইয়ের ভিত্তিতে আমাদেরকে এটি করতে হবে। কারণ আমরা লস চাই না, আমরা চাই না কোন উদ্যোক্তা উদ্যোগ গ্রহণ করে সেটাতে তারা ব্যর্থ হোক।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৩০ মিনিটের প্রশ্নপর্ব। এ সময়ের মধ্যে চারটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জন্য লিখিত প্রশ্ন ছিলো ৭টি।

এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ নেতারা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version