রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর চারটি আসনের সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে নামাজ আদায়ের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর সাত্তারের ইমামতিতে নীলফামারী-২, ৩ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্যরা একত্রে নামাজ আদায় করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একে “ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এরই প্রেক্ষিতে ডিমলার এক বিএনপি কর্মী আরিফুজ্জামান আরিফ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “লোক দেখানো ইবাদত কবুল করুক, আমিন।” তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পোস্টটিতে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য।
মন্তব্যকারীদের মধ্যে ‘বাবু’ নামে একজন লেখেন, “তারা কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন না? সব নামাজই কি লোক দেখানোর জন্য পড়ে? চার এমপি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছে বলেই হয়তো ছবি তোলা হয়েছে। নামাজ নিয়ে কটাক্ষ করা ঠিক না।”
‘জাহিদ’ নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “ছোট ভাই আরিফ, নামাজ নিয়ে কথা বলা ঠিক না।”
‘রাজু’ নামে একজন লিখেন, “আপনার জন্মের আগ থেকেই তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আসছেন।”
অন্যদিকে ‘লেলিন’ মন্তব্য করেন, “যার পরিবেশ যেমন, সে তেমনই মন্তব্য করবে।”
‘আলিম’ নামে একজন বলেন, “ছবি দেওয়াটাই আমার মনে হয় ঠিক হয়নি।”
এছাড়া ‘ইউনুস আলী মোল্লা’ মন্তব্য করেন, “ছবি উঠানোটা অসঙ্গতিপূর্ণ, পোস্ট করা তো অবশ্যই।”
এছাড়াও এ বিষয়ে আরও অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে অনলাইন অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ধর্মীয় ইবাদতকে ঘিরে এমন বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সংযত আচরণ প্রত্যাশিত। তারা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা।

