জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকট ও এ সংক্রান্ত নানা গুজব মোকাবিলায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থা স্বাভাবিক এবং সুশৃঙ্খল রাখতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে যুগান্তকারী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলমান কৃষি মৌসুমে সেচসহ অন্যান্য কৃষিকাজ যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কৃষকদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে বিশেষ ‘কৃষি ফুয়েল কার্ড’। এর পাশাপাশি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যন্ত্রচালিত যানবাহনের চালকদের জন্য আলাদা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার দুই হাজার মোটরসাইকেল চালক এবং দুই হাজার কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি জমা দিতে হবে। প্রক্রিয়াটি সহজ রাখা হয়েছে। কৃষকরা শুধুমাত্র তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিলেই কৃষি ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা জারি করেছে যে, এখন থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী ব্যক্তি ও যানবাহনকেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। কার্ডবিহীন কাউকে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে না। উপজেলার নির্ধারিত দুটি পাম্পে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত একযোগে এই কার্ডের মাধ্যমে তেল বিক্রির কার্যক্রম চলবে।
এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়ানো গুজবের কারণে সাধারণ কৃষকদের মনে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “কৃষকদের সেই উদ্বেগ দূর করতে এবং কৃষিকাজের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই মূলত বিশেষ কার্ড পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা এখন থেকে নির্ধারিত ও সঠিক মূল্যে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজেল নির্বিঘ্নে সংগ্রহ করতে পারবেন।”
সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরানো ও কালোবাজারি রোধের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, “ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ শুরু হওয়ার ফলে তেলপাম্পগুলোতে দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা ছিল, তা দূর হয়ে নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে। পাশাপাশি অসাধু চক্রের কালোবাজারি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে খুব দ্রুতই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।” প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও চালকরা।

