নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার সদর উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের বালিজুড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- মোশারফ হোসেন (৩০), স্বপ্না (৪০), নাইম (২৫) ও মীম (২০), তারা সকলে চল্লিশা ইউনিয়নের ঝাউশি এলাকার বাসিন্দা। আরেকজন পারলা এলাকার বাসিন্দা জুয়েল মিয়া (২৫)। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ চক্রের আরেক সদস্য রুনা (২৫) সুকৌশলে পালিয়ে যান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতরা নিজেদের ‘আশক ফাউন্ডেশন’ নামের কথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে তারা রৌহা ইউনিয়নসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বড় অঙ্কের ছাড় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর বিনিময়ে তারা প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে সদস্যভুক্তির কার্ড বাবদ ১২০ টাকা করে আদায় করছিল।
চক্রটির কার্যক্রমে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি রৌহা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানান। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাতেন বলেন, “কয়েকদিন ধরেই এ চক্রটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ১২০ টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণ করছিল। তাদের কাছে প্রশাসনের কোনো অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তারা জানায়, উপজেলা থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমন কোনো সংস্থাকে তারা অনুমোদন দেননি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে প্রতারকদের আটক করে।”
নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব আলী এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যদি তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পলাতক সদস্যকে আটকেরও চেষ্টা চলছে।”

