তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকারী সচিব পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মৌলভীবাজারের হিমেলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ২রা এপ্রিল রাত ১১টার দিকে সিলেট নগরীর কাজীটুলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণার মূলহোতা কামরুল হাসান হিমেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার বাগৃহাল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। শুক্রবার (৩রা এপ্রিল) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-৯-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আসিফ আল-রাজেক, আর্টিলারি। রাতে র্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। চাকরি,বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে তারা অর্থ হাতিয়ে নিত। র্যাব জানায়, হিমেল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেইসবুক আইডি খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অর্থ আদায় করতেন তিনি। প্রতারিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ নিজের হিসাবে নাম্বারে নিয়ে সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব নাম্বার, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতেন।
হিমেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে তার সহযোগী শরীফ আহমদকে (৪২)-ও গ্রেপ্তার করা হয়। সে সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ঘাটের চটি গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে কয়েকটি স্মার্টফোন,বাটন ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমেল দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন।
তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে। ইতোপূর্বে মোঃ কামরুল হাসান হিমেল আওয়ামীলীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, পিও ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পিআরও পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত একই রকম প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে স্বীকার করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

