দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

; ;

দ্যা মেইল বিডি ডট কম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত অনলাইন পত্রিকা, নিবন্ধন নং- ১১

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গত দুই দিন ধরে জ্বালানি তেলের (পেট্রোল ও অকটেন) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনটিতে তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। ঈদের আনন্দ উদযাপনের বদলে তেলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে ফিরেছেন। ফলে গত কয়েকদিনে এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি তেলের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কেন্দুয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ ১৬ হাজার ৯৭৬ জন মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য রয়েছে মাত্র একটি পাম্প- ‘হিমালয় ফিলিং স্টেশন’।

বিশাল জনগোষ্ঠীর বর্ধিত চাহিদার চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয় পাম্পটি। ঈদের দিন বিকেল থেকেই পাম্পটিতে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে তেল নিতে এসে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

পাম্পে তেল না থাকার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। অভিযোগ উঠেছে, তারা সিন্ডিকেট করে খোলাবাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে। বাধ্য হয়ে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া চালকরা এই চড়া দামেই তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তেল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে হিমালয় গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা। তিনি জানান, “ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। এখনো তেলের জন্য লাইনে থাকতে হচ্ছে। আমার প্রয়োজন ১৫ হাজার লিটার, কিন্তু আমাকে মাত্র পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল ও পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল দিতে চাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই সামান্য তেল দিয়ে কীভাবে আমি পুরো উপজেলার জনগণের চাহিদা পূরণ করবো? কেন্দুয়া উপজেলায় মাত্র একটি পাম্প থাকায় সরকারি রেশনিং পদ্ধতির যে পরিমাণ বরাদ্দ, তা দিয়ে বর্তমান চাহিদা কোনোভাবেই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।”

তেল সংকট ও কালোবাজারির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে। এছাড়া, কেন্দুয়া পাম্পে যাতে তেলের বরাদ্দ বাড়ানো হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।”

ঈদের ছুটির সময়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। একইসাথে, যারা খোলাবাজারে ২৮০ টাকা দরে তেল বিক্রি করে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© 2026 Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version