নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বানোয়ারি গ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বানোয়ারী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে শাহ আলম চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে চরম বিরোধ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। গত শনিবার শাহ আলম চৌধুরীর লোকজন ওই বিরোধপূর্ণ ক্ষেতে কাজ করতে গেলে রফিকুল ইসলামের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
শনিবারের ঘটনার জের ধরেই রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং ভয়াবহ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে মারামারির একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামের লোকজন পিছু হটে নিজেদের রক্ষার্থে স্থানীয় একটি মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শাহ আলম চৌধুরীর উত্তেজিত লোকজন মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা না করেই সেখানে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে।
এ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন- মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, মৃত ইংরেজ মিয়ার ছেলে মিস্টার আলী, জয়নাল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া, মৃত সুুলতান মিয়ার ছেলে ফজলু মিয়া, রোকন মিয়ার ছেলে টিপু মিয়া, মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ভুট্টু মিয়া তাদের পরিচয় জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের উদ্ধার করে মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “সংঘর্ষ ও ভাংচুরের খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতির কারণে বর্তমানে সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।”
এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


