দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

; ;

দ্যা মেইল বিডি ডট কম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত অনলাইন পত্রিকা, নিবন্ধন নং- ১১

মেহেদি হাসান রনি,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি, দিবস ও সেমিনারের আয়োজন হলেও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। উত্তরের জেলা নীলফামারীতে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেও নারী শ্রমিকরা পাচ্ছেন অর্ধেক মজুরি—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী নারীদের কাছ থেকে।

নীলফামারী সদর, ডোমার, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পখাতে নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করলেও পারিশ্রমিকে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের পরিচর্যা, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ, ধানের চারা রোপণ, মাটি কাটা, সড়ক সংস্কার ও আলু উত্তোলনসহ নানা কাজে শত শত নারী-পুরুষ শ্রম দিচ্ছেন।

কিন্তু দিন শেষে পুরুষ শ্রমিকরা যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কোথাও কোথাও এর চেয়েও কম পারিশ্রমিক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফাগুনের খরতাপে রামগঞ্জ বাজারের একটি তামাক ক্রাশিং মিলে কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজন নারী শ্রমিককে। (ছদ্মনাম) রুপম, মেরিনা, ফেলানী, তহমিনা ও বিলকিস সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেন। রুপম বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খাটতে হয়।

আমাদের মজুরি ২২০ টাকা, আর পুরুষ শ্রমিকরা পান ৫০০ টাকা। আমাদের কথা দেখার যেন কেউ নেই।” একই মিলের পুরুষ শ্রমিক গজেন বলেন, “সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করি। মজুরি ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তেমন বাড়ে না, কিন্তু কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।” একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন নারী শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেও তারা পান মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তারা বলেন, পুরুষদের মতো সমান মজুরি পেলে তাদের জীবনযাপন কিছুটা হলেও সহজ হতো।

ডোমারের চিকনমাটি রোডের একটি তামাক মিলে কাজ করা রাবেয়া বেওয়া বলেন, “নারী-পুরুষ বেতনবৈষম্য বুঝি না। কাজ করন নাগবো, খাওন নাগবো, বাঁচন নাগবো—এই চিন্তাই করি। এর বাইরে ভাবার সময় বা সুযোগ নাই।” টেংগনমারী এলাকার মেরিনা বেগম বলেন, মাঠে প্রায় সব ধরনের কাজই তারা করেন। অনেক সময় পুরুষদের চেয়েও বেশি সময় কাজ করলেও মজুরি পান অর্ধেক। একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করা নুরবানু আক্তার বলেন, “পুরুষ শ্রমিকরা মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিলেও আমরা দুপুরের ছোট বিরতি ছাড়া প্রায় সারাক্ষণ কাজ করি।

তারপরও আমাদের মজুরি কম। সপ্তাহে কোনো ছুটি নেই। কাজে না এলে মজুরি নেই। বাজার করা, থাকা-খাওয়া সবই নিজেদের। বছরে পাঁচ-ছয় মাস এই কাজ থাকে। এরপর শরীর এতটাই ভেঙে পড়ে যে অন্য কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়।” ডোমারের শালকী ব্রিকসের শ্রমিক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভোর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করে আমরা ৫০০ টাকা পাই। কিন্তু একই কাজে নারী শ্রমিকরা পান ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চালানো খুব কঠিন।”

এ বিষয়ে নীলফামারীর এক নারী নেত্রী বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে সমান শ্রম দিয়েও নারীরা এখনও মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রতিবছর নারী দিবস বা শ্রমিক দিবসে সমঅধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ খুবই কম। তবে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন টিআর, কাবিখা ও কর্মসৃজন কর্মসূচিতে নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা হয়।

বেসরকারি খাতেও এ বৈষম্য দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকি জোরদারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—কঠোর পরিশ্রমের পরও অর্ধেক মজুরিতে দিন কাটাতে হচ্ছে অসংখ্য নারী শ্রমিককে। তাদের দাবি, সমান শ্রমের ন্যায্য মূল্য পেলে শুধু তাদের জীবনই বদলাবে না, বদলে যাবে পুরো সমাজের চিত্র।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© 2026 Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version