নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার মামলার প্রধান আসামিসহ দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। তারা হলেন- ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার মো. আকাশ মিয়া প্রকাশ সুমন (২৫) এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী হাসান।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ১টায় র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরতি এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ভালুকা এবং গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ-এর আভিযানিক দল।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. আকাশ মিয়া প্রকাশ সুমন (২৫)। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। ভিকটিমের বাড়ির পাশে একটি অটো রাইস মিলে কাজ করার সুবাদে আকাশের সাথে ভিকটিমের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আকাশ গত বছরের ৫ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আকাশকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু আকাশ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ভিকটিম একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
নিরুপায় হয়ে ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনেধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়।
এ মামলার সূত্র ধরেই র্যাব-১৪ এর একটি দল মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ময়মনসিংহের ভালুকা থানার সীডষ্টোর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আকাশ মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
একই দিনে র্যাবের অপর আরেকটি আভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালায়। র্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর ক্যাম্পের সহায়তায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানাধীন ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী হাসান নামের এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আলী হাসান ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার রবিরমারা গ্রামের আইনুল হক ওরফে কালু মিয়ার ছেলে। র্যাব জানায়, সে ফুলপুর থানার ২০১৯ সালের একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত উভয় আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে র্যাবের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।


