কেন্দুয়া প্রতিনিধি: জ্বালানি তেলের পরিমাপে কারচুপি করে গ্রাহকদের ঠকানোর দায়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মেসার্স হিমালয় ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাম্পটিতে প্রতি লিটার তেলে ৫০ মিলিলিটার ঘাটতি পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন কেন্দুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী।
জানা যায়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে বিএসটিআই কর্মকর্তারা পাম্পের ডিসপেনসিং ইউনিটটি স্ট্যান্ডার্ড মেজারিং ক্যানের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাম্পটি থেকে গ্রাহকদের প্রতি ১০ লিটারে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার (আধা লিটার) তেল কম দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি লিটারেই ৫০ মিলিলিটার তেলের ঘাটতি ছিল।
এমন জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন লঙ্ঘনের দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত বিএসটিআই ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর মেহের আফফান বলেন, “ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা রোধে জ্বালানি তেলের মিটার নিয়মিত ক্যালিব্রেশন ও ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে পুনরায় ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে, মাপে কম দেওয়ার বিষয়ে পাম্পের ম্যানেজার গোলাম মাওলা দাবি করেন, মিটার ইনস্টলেশনজনিত সমস্যার কারণেই পরিমাপে এই পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে তারা বিএসটিআই কার্যালয়ে আবেদন করবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “জরিমানা অনাদায়ে আইনানুগ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় এবং এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


