শেখ শামীম: ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমা নামাজ আদায়ের পূর্বে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সদর ইউনিয়নে চত্রংপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। এরপর তিনি কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের সাধারণ ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “তাঁদের মূল্যবান ভোট ছাড়া আজ আপনাদের সামনে এভাবে দাঁড়ানো সম্ভব হতো না। আমি আমার কাজের মাধ্যমেই এর মূল্যায়ন করব ইনশাআল্লাহ।”
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতীত দুর্নামের বিষয়ে কায়সার কামাল বলেন, “এই মন্ত্রণালয়ের পূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী ‘কুখ্যাতদের মধ্যে বিখ্যাত’ বা ইনফেমাস ছিলেন। তাই আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা থাকবে এই মন্ত্রণালয়ের ইমেজ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা।”
দুর্নীতি দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে। এটি শুধু ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।”
দেশের জলাশয় ও পুকুরগুলো নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে অনেক উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করা হবে। সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বৃক্ষরোপণ এবং খাল খনন কর্মসূচি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের হারানো ঐতিহ্যবাহী যেসব পুকুর বা জলাশয় বেদখল হয়ে গেছে বা ব্যক্তিস্বার্থে ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার এবং এ সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ’ এ বিষয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল জোর দিয়ে বলেন, “আমরা একটি জনবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যে ভিশন, তা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। মানুষকে আমরা প্রমাণ করে দেখাতে চাই যে, এটি শুধু বিএনপি’র সরকার নয়, এটি মূলত জনগণের সরকার।”
সংবিধান এবং রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। তবে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্বাচিত পরবর্তী পার্লামেন্টই নির্ধারণ করবে।”
সবশেষে, সরকারের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ আপামর জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।


