নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্ধ্যা নেমেছে মাত্র, চারদিকে মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতি। ঠিক তখনই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুনের লেলিহান শিখা। নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বনতিয়শ্রী গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এভাবেই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত চারটি পরিবারের বসতঘর ও জীবনের জমানো সম্বল।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তিয়শ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফী। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আজ (বৃহস্পতিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার এবং গৃহহীন পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘর তোলার জন্য ঢেউটিন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে বলা হয়েছে।”
এরআগে ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বনত্রিয়শ্রী গ্রামের মানিক মিয়ার বাড়িতে। চেয়ারম্যান জানান, মানিক মিয়ার বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত। চোখের পলকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের রিংকু মিয়াসহ আরও কয়েকটি ঘরে। আগুনের ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মাঝেই আশেপাশের তিন-চারটি গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আগুন নেভাতে।
ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফী আরও জানান, “এ অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত না হলেও চারটি পরিবারের অন্তত ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিবারগুলোর আর্থিক মেরুদণ্ড একেবারে ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী সদস্যও রয়েছেন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে নগদ প্রায় চার লক্ষ টাকাসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র।”
এ বিষয়ে মদন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী প্রতিবেদককে জানান, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অগ্নিকাণ্ডে ওই পরিবারের চারটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্যমতে, প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো সম্পদ নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাড়িতে গরু বিক্রির নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিল, যা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
ইউএনও আরও জানান, “আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমানে আমাদের কাছে টিনের মজুদ নেই, তাই দ্রুত জেলা প্রশাসনের কাছে টিনের জন্য চিঠি লিখব। জেলা থেকে টিন বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


