ইবি প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট শেষ হওয়ার আগেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা ভোটের গোপনীয়তা বিধি লঙ্ঘন করে সিলমারা ব্যালট ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে এ সিল মারা ব্যালট পেপারের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তারা।
ভোটের দিন সকাল থেকেই ইবি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সিল মারা ব্যালট পেপারের ছবি পোস্ট করতে থাকে। কিছু পোস্টে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল দেয়ার পর সেই ব্যালটের ছবি তুলে তা প্রকাশ করেছেন। অনেক পোস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে সমর্থনমূলক মন্তব্যও যুক্ত ছিল। এতে ভোটের নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ও গণভোট উভয় ব্যালট পেপারের ছবিও পোস্ট দিয়েছন তারা। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ ধরনের ছবি ভোট জালিয়াতি বা ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করছে কি না। আবার অনেকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছেন।
নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। সাধারণভাবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বিশেষ করে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা বা তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৬ অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ৩ ও ৪ এ বলা হয়, “ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কেউই গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।”
ইবি শিক্ষার্থী ওয়াইস কুরুনী বলেন, “সবাই পোস্ট করছে তাই আমিও করেছি, আমাকে ভোট কেন্দ্রে বাঁধা দেওয়া হয়নি।”
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনারুল ইসলাম বলেন,“জীবনে তো ভোট দেয়নি, অনেক দিন পরে ভোট দিয়েছি, ভোটের উৎসবে অত ভাবিনি পোস্ট দিয়ে দিছি।”


