নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ১২ তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকের ৪টায় জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, আজ (রবিবার) সন্ধ্যার পর থেকেই জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১:৫ অনুপাতে একটি করে মোবাইল টিম মোতায়েন করা হচ্ছে। এ টিমগুলো আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত টানা ডিউটিতে থাকবে এবং ২৪ ঘণ্টা টহল নিশ্চিত করবে। এছাড়া প্রতিটি থানায় একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৮৯০ সদস্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী, র্যাব এবং আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জেলার ৭৭৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১০টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অনলাইন বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি ক্লাউড সার্ভারে জমা হবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ মনিটর করা হবে। এছাড়াও ২৬৬টি কেন্দ্রে অফলাইন ক্যামেরা থাকবে যা নিয়মিত রেকর্ড করবে। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বা পুলিশ সদস্যের সহায়তার প্রয়োজন হলে ক্যামেরায় থাকা বাটনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা পাঠানো যাবে।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের সাথে পুলিশের আচরণ কেমন হবে তা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ বন্ধুসুলভ আচরণ করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে একসাথে সর্বোচ্চ দুজন সংবাদকর্মী প্রবেশ করতে পারবেন। স্থির চিত্র ধারণের অনুমতি থাকলেও কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভিডিও বা সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা যাবে না।
মাঠে কর্মরত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হলে পুলিশ প্রশাসন তাতে সম্মতি জানায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে সাংবাদিকদের প্রকৃত সত্য জানানো হবে, যাতে কোনো ধরণের গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
পুলিশের এমন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
শেরপুর জেলা পুলিশের ইন সার্ভিস ট্রেনিং এর পুলিশ সুপার মো. ফখরুজ্জামান জুয়েল, নেত্রকোনা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রেজওয়ান আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


