নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেছেন, বিজয় কোনো সন্ত্রাসীর হাতে নয়, বিজয় একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা প্রশাসনকে হাত করে গত তিনটি নির্বাচনের মতো দিনের ভোট রাতে করার চেষ্টা করছেন এবং কেন্দ্র দখলের পায়তারা করছেন, জনস্রোত দেখে তারা ভয় পেয়ে গেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় শহীদ আলী উছমান শিশু পার্কে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারের পক্ষে জনমত তৈরিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই ভিপি জাহিদ ছাত্রশিবির ও জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যারা ইসলামী আন্দোলন করি, তারা অন্য ধর্মের মানুষকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি। তার প্রমাণ হলো- রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সুজন চন্দ্র নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ হিন্দু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোট দিয়েছে কারণ তারা জানে ছাত্রশিবির কখনো চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি করবে না।”
সাবেক মন্ত্রীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী সরকারে ছিলেন। সবার দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রকাশ পেলেও আমাদের মন্ত্রীদের এক টাকার দুর্নীতি কেউ খুঁজে পায়নি। আমরা পরীক্ষিত, আমাদের নতুন করে পরীক্ষা করার কিছু নেই।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে ‘রুহবানুল লাইল ওয়া ফুরসানুন নাহার’ (রাতের ইবাদতকারী এবং দিনের অশ্বারোহী) নীতিতে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া এবং দিনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সপ্তাহে ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের উচ্চশিক্ষালয়গুলোর প্রসঙ্গ টেনে জাহিদ বলেন, “রাকসুসহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ের পর আমাদের প্রতিপক্ষরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তারা বলেছিল তাদের মূল নেতা আসলে দেখে নেবে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে যখন ছাত্রশিবির পূর্ণ প্যানেলে জিতল, তখন তারা ভয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনই বন্ধ করে দিল। এখন জাতীয় নির্বাচনেও তারা জনজোয়ার দেখে পালানোর পথ খুঁজছে।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শহীদ নেতাকর্মীদের স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য রাজনীতি করে না। তারা বিদেশের উড়ে এসে জুড়ে বসা কারো জন্যও দল করে না, তারা রাজনীতি করে আল্লাহ ও রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য। গুলি খেয়ে মরতে তারা ভয় পায় না।”
তিনি উপস্থিত জনতাকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়া এবং ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ.টি.এম. মাছুম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা আমির মাও. সাদেক আহমেদ, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আল হেলাল তালুকদার, রাকসুর শাহ মখদুম হলের জিএস মো. বায়জীদ হাসান, খেলাফত মজলিসের মুফতি ইরশাদুল্লাহ কাসেমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. প্রীতম মিয়া সোহাগ, এলডিপি দলের জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মুকুলসহ আরো অনেকে।
জনসভায় স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে ভোটে কেন্দ্র পাহাড়াসহ সকলকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় এবং নেত্রকোনা-৪ আসনে মো. আল হেলাল তালুকদারকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


