নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশ বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত- একদিকে ১১টি দল, অন্যদিকে আর একটি দল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গুন্ডা-মাস্তান দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার দিন শেষ হয়ে গেছে। কেউ যদি ব্যালটের রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আল্লামা জিয়া উদ্দীন সাহেব (দা: বা:) এর সভাপতিত্বে, দুর্গাপুর উপজেলায় সুসং সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক আরও বলেন, “গত ৫৪ বছর ধরে শাসনের নামে এ দেশের মানুষের ওপর শোষণ চালানো হয়েছে এবং মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলার মানুষের ন্যায় ও ইনসাফের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন এবং শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দিয়ে ১১ দলীয় জোটের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।”
এ সমাবেশে অন্যানদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা প্রিতম সোহাগ, ফয়সাল মাহমুদ, ছাত্র শিবির জাবি শাখার সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন, জামায়েতে ইসলামী জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক মাও. সাদেক আহমাদ হারিছ, কলমাকান্দা উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক মাও. আবুল হাসিম, দুর্গাপুর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানীসহ অন্যন্য নেতাকর্মী ও আলেম মাশায়েকগণ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট করেন যে, ১১ দলীয় ঐক্যজোট কোনো একক নেতার নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট দলের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গঠিত হয়নি। বরং এটি গঠিত হয়েছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়া এবং ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো চাঁদাবাজ বা টেন্ডারবাজের হাতে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া হবে না, যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে, তাদের বর্জন করতে হবে, বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না দেশবাসী।
নেত্রকোনা-১ আসনে ‘রিকশা’ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোটারদের সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।


