গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
কাঁধে ঝোলানো হ্যান্ডমাইক, হাতে পুরাতন একটি সাইকেল—এই সামান্য সঙ্গী নিয়েই নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মো. আজিজার রহমান বিএসসি। নেই কোনো কর্মী-সমর্থক, নেই পরিবারের কাউকে সঙ্গে পাওয়া যায়। সবকিছু একাই সামলে দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ত তিনি। ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে ভোট চেয়ে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোড়া বকস গ্রামের মৃত রজ্জব মন্ডলের ছেলে আজিজার রহমান পেশায় স্থানীয় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেভিওয়েটদের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। 
তথ্য নিয়ে জানা যায়, আজিজারের নিজস্ব কোনো মোটরসাইকেল নেই। আছে শুধু একটি পুরাতন বাইসাইকেল। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কিনেছেন একটি হ্যান্ডমাইক। প্রতিদিন ভোরেই বাড়ি থেকে বের হয়ে মাইক কাঁধে বেঁধে সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে শত শত পথসভা করছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজিজার রহমান শুধু এবারই নয়—এর আগেও চার দফা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
এমনকি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে কখনও জয় পাননি। তবুও হার না মানা মনোবল নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে নেমেছেন তিনি। স্থানীয় ভোটার গোলজার রহমান বলেন, ‘আজিজার বিএসসির প্রচারণায় কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নেই। অন্যদের কর্মী-সমর্থকের আচরণ নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু শোনা যায় না।’ আরেক ভোটার ঈসমাইল কামাল বলেন, ‘নির্বাচনে এখন যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তা আজিজারের পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরও তার মতো প্রার্থীকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখা যেতে পারে।’
কর্মীর অভাব থাকায় সব কিছু একাই সামলাচ্ছেন আজিজার। সাইকেলে চড়ে, হ্যান্ডমাইক হাতে প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এবার সাধারণ মানুষের মধ্যে আমার প্রতি ভালো সাড়া পাচ্ছি। সুযোগ পেলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।’ উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৪৫টি কেন্দ্র ও ৯৫২টি কক্ষে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।