নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহত্তর ময়মনসিংহের নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি (এসইউএস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়া (মস্তুরা) আর নেই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
বেগম রোকেয়া ১৯৪৭ সালের ১৭ মে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবন ছিল এক অদম্য সংগ্রামের গল্প। মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দুই মেয়ের জন্মের পর তিনি বিবাহবিচ্ছেদের শিকার হন। তবে দমে না গিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং বিএ ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৫ সালে তিনি সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’। বর্তমানে সংস্থাটি ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নারী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
বেগম রোকেয়া শুধু স্বাবলম্বী’র প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, পিকেএসএফ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বেগম রোকেয়ার মৃত্যুতে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রওশন আখতার ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পালসহ সংস্থাটির সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সংস্থাটির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল জানিয়েছেন, মরহুমার মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুইডেন থেকে নেত্রকোনায় ফিরিয়ে আনা এবং তাঁকে দাফন করা হবে।
তিনি মৃত্যুকালে দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


