নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পৌর শহরে আমলাপাড়া এলাকায় পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আফরোজা আফসানা।
পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় সম্প্রতি (এক সপ্তাহ) ধরে খালের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মাটি ফেলে ভরাটের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান এই মাধ্যমটি দখল হয়ে গেলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। দীর্ঘকাল ধরে এই খালটি ব্যবহৃত হয়ে আসলেও প্রভাবশালীরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অংশ দখল করে নেওয়ায় বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্ট হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই দখলের চেষ্টা চলছে।
আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মুকুল বলেন, ”এর আগেও তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এখন আবার জনগুরুত্বপূর্ণ খালটি দখলের চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
আরেক বাসিন্দা ধনেশ পত্রনবীশ জানান, “খালটি ভরাট হয়ে গেলে পুরো শহরের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি দ্রুত পুরো খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খননের মাধ্যমে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান।”
দখল প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার জানান, তিনি কোনো অবৈধ কাজ করছেন না। তার দাবি, ওই জমিটি সরকারের কাছ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে এবং তার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই গতকাল (বৃহস্পতিবার) মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যিনি খালটি ভরাট করছিলেন তিনি বন্দোবস্তের কাগজ নিয়ে এসেছেন। যেহেতু এটি খাল হিসেবে দেখেছি আমরা, তাই ওই কাগজপত্রসহ অন্যান্য বিষয় তদন্ত করতে দিয়েছি। এই খালটি পানি চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। এটি ভরাট হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।


