নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসার নবগঠিত এডহক কমিটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। একইসঙ্গে সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে বোর্ড থেকে একটি এডহক কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন। কিন্তু ওই কমিটিতে মো. আব্দুস সালাম নামক এক ব্যক্তিকে সভাপতি করা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপত্তি তোলা হয়।
অভিযোগকারী খালিয়াজুরী নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মৃত আমিরুল চৌধুরীর ছেলে আলী হামজাদ আকন্দ। তার দাবি- মাদরাসার সুপার অত্যন্ত কৌশলে একজন ‘দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে সভাপতি পদে বসিয়েছেন। এরআগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও-কে সভাপতি করে কমিটি করে দিয়েছিল। কিন্তু, মাদরাসার সুপার নিজের স্বার্থ হাসিলে পুনরায় আব্দুস সালামকে সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনেন।
অভিযোগকারীর অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, মাদ্রাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ প্রতিষ্ঠানের জলমহাল ও জমি ইজারা দিয়ে প্রাপ্ত প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই বিশাল অংকের টাকার হিসাব ধামাচাপা দিতেই তিনি নামকাওয়াস্তে পকেট কমিটি গঠন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমদের স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা যায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বর্তমান এডহক কমিটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হলো এবং খালিয়াজুরী ইউএনও-কে বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।
খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী হাসান পিন্টু এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদরাসা একটি ধর্মীয় শিক্ষালয়। এখানে কোনোভাবেই কোনো বিতর্কিত লোককে এডহক কমিটির আহবায়ক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। এই মাদরাসার সুপার ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এখন নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই তিনি স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসা সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, মাদ্রাসার এত টাকা আয় নেই যে, আমি তা আত্মসাৎ করতে পারব। আমার বিরুদ্ধে আনা এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হাতে পায়নি। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকেও কোনো চিঠিপত্র বা অনুলিপি তার দপ্তরে পৌঁছেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


