নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেছেন, “গণভোটের মার্কা হচ্ছে- একটা ‘কাটা’ চিহ্ন আরেকটা ‘টিক’ চিহ্ন। এটাই হচ্ছে গণভোটে মার্কা। যেটা ‘কাটা’ চিহ্ন সেটা হচ্ছে ’না’ আর সেটা ‘টিক’ চিহ্ণ সেটা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’। এই গণভোট- দেশকে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করার জন্য। ফ্যাসিবাদ কী- অতীতে আপনার দেখেন নাই? আপনাদের প্রতিনিধিত্ব কারা করেছে- দুর্বৃত্তরা করছে। সমাজের দুর্বৃত্ত তারা আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে যেয়ে দেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। দেশে দুর্বৃত্তায়ন ও সম্পদের অসম বন্টনের ফলে এ দেশে এক শ্রেণির মানুষ শুধু ধনী থেকে ধনী হয়েছে। আর অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হয়েছে।”
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা নারানিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে লোক সংগীতানুষ্ঠান ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এখানে আসার পথে আমরা রাস্তার মধ্যে অনেক অটোরিকশা চলাচল করতে দেখিছি। জায়গা নাই তারপরও আরেকটা নতুন অটোরিকশা নিয়ে রাস্তা উঠতেছে। দেশে কর্মসংস্থানের যে অভাব তৈরি হয়েছে, মানুষের রোজগার করার সম্ভাবনাকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে- বৈষম্য সৃষ্টি করার মাধ্যমে। এই বৈষম্য সৃষ্টি করায় আপনার প্রতি প্রশাসনিক অবিচার ও জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের বিচারালয়, প্রশাসন, রাজস্ব বিভাগ, ব্যাংক বিভাগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যে প্রতিষ্ঠানে দুবৃত্তরা একটা ক্যান্সারের মতো বিরাজমান ছিল না। স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম- সেখানে কীভাবে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। আমরা দেখেছি কীভাবে সাংবাদিকদেরকে পদলেহন করা হয়েছে, কীভাবে সত্যকে ‘অসত্য’ ও অসত্যকে ‘সত্যে’ পরিণত করা হয়েছিল।”
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রের মালিক আমরা যারা জনগণ। এই গণভোটের মাধ্যমে আপনাদের মালিকানা আপনাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আপনার-আপনাদের মালিকানার দলিল হচ্ছে ‘সংবিধান’। এই ‘সংবিধান’ সংস্কার করার উদ্দেশ্যে যারা দেশপ্রেমিক- সর্বশেষ হাদীকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দিয়েছিলো, আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি। যেভাবে ইয়ামিন, মুগ্ধ, আনাস প্রাণ দিয়েছে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান তৈরি করে। ৩৫টি রাজনৈতি দল মিলে ৭২টি সভা করেছে। পরে ৮৪টি বিষয়ে সিদ্ধান্তে ঐক্যমত্য গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঐক্যমতে্য আপনার রায় ‘হ্যাঁ’ কিনা ‘না’। আপনি আপনার রাষ্ট্র- বৈষম্যহীন রাষ্ট্র চান কিনা। আপনি চান কিনা আপনার দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক। আপনি চান কিনা আপনার যে সমস্যগুলো আছে সে সমস্যাগুলোর সমাধানের ভিত্তি হোক। নাগরিক হিসেবে আপনার অধিকার রয়েছে।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আরো বলেন, “বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের। ধর্মীয় বিভাজনসহ আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। অসত্য বয়ান তৈরি করে আমাদেরকে বিভক্ত করা হয়েছিল। আমাদের ঐক্যের যে দলিল সেটা হচ্ছে ‘সংবিধান’ সংস্কার। এই সংস্কারে আপনারা সকলেই অংশগহণ করুন। সকলে ভোটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। এই ‘সংবিধানে’ আপনি রাষ্ট্রের নাগরিক। রাষ্ট্রের সাথে আপনার যে চুক্তি- সেটাই হচ্ছে ‘সংবিধান’। এই চুক্তিকে আপনি বাস্তবে রূপদান করতে পারবেন গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সকলের প্রতি অনুরোধ আপনারা (জনগণ) ‘টিক’ চিহ্ন ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিন এবং আপনার মালিকানা গ্রহণ করুন।”
এসময় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক আল ফয়সাল, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির্বগ ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন এবং লোক সংগীতানুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা করেন।


