লোকমান আহমদ,
সিলেট সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ও দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। জকিগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহমদ (৯)।
সে বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের তকু মিয়া কবিরের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা যায়নি। তবে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক আরোহীকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসী দ্রুত ঘাতককে আটক এবং সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই দিনে সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তিনটি বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার মজিবুর রহমান (৫৫) এবং বকুল রবি দাস (২৮) নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। এছাড়া সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের বুরাইরগাঁও এলাকায় যাত্রীবাহী এনা পরিবহনের একটি বাস ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের চালক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত বাসচালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শেরপুর ও জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নিহতদের মরদেহ সংশ্লিষ্ট থানার হেফাজতে রয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন। সিলেট-সুনামগঞ্জের মহাসড়কে গাড়ির চলাচল ধীরে হলেও চলমান রয়েছে। এলাকাবাসী এবং পুলিশ উভয়ই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


