দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

; ;

দ্যা মেইল বিডি ডট কম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত অনলাইন পত্রিকা, নিবন্ধন নং- ১১

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালতে আসামীদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দিন গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটককৃতসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে জেলায় তিন থানায় মামলা হয়েছে পাঁচটি।

এর মধ্যে পলাশবাড়ীতে তিনটি, সদরে একটি এবং ফুলছড়িতে একটি মামলা হয়। একই ধরণের, একাধিক ঘটনায় হওয়ায় একাধিক মামলায় রিমান্ড আবেদন করেছেন আলাদা আলাদা তদন্ত কর্মকর্তারা। এরমধ্যে সদর থানার মামলা তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরীক্ষার দিন আটক হওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পিত চুক্তি, ডিভাইস সরবরাহ, বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান এবং নির্দিষ্ট লোকেশনে বসে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়ার তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে ব্যাপক রিমান্ড আবেদন করেছেন তারা। মামলা সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৪৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্রের থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরের ১৯ টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ির ৩ টি কেন্দ্রে থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ির উপজেলার দুটি কেন্দ্র থেকে আটক করা হয় ৩ জনকে। এসব ঘটনায় পরদিন (১০ জানুয়ারি) এই আটক ৫২ জনসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় মামলা করে দুই উপজেলার চার কেন্দ্র সচিব ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। ৫৫ আসামীর মধ্যে গাইবান্ধা সদর থানার ৪০ জন। যার মধ্যে পলাতক আসামী রয়েছেন ৩ জন। গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি ৪০ জন।

এদের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং নারী আসামী ১১ জন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সদরের আটক পুরুষ ২৬ আসামির প্রত্যেকের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। নারী এবং কোনো কোনো নারীদের শিশু বাচ্চা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তিন আসামী পলাতক রয়েছে। এদিকে পলাশবাড়ী উপজেলার তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ১২ জন আটক হওয়া ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন মামলার বাদি তিন কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব। ১২ আসামির মধ্যে ৯ জনের ৭ দিনের এবং ৩ জনের ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছে পলাশবাড়ি থানা পুলিশ। ফুলছড়ি উপজেলায় একটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ২ জন নারী এবং ১ জন পুরুষ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পরীক্ষাকালীন গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার পরীক্ষায় জেলার ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে এসব আটক করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১১ জন আটক হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানান, ‘পরীক্ষা চলাকালে জেলার ২৪টি কেন্দ্র থেকে ৪৮ জন এবং কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেট থেকেই আরও ৪ জনসহ মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দুই থানার চার কেন্দ্র সচিব ৪ মামলা এবং সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলাসহ মোট পাঁচটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

৫ টি মামলায় আটককৃত ৫২ জনসহ আসামী ৫৫ জন।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ঘটনাসমুহ সুষ্ঠু ও অধীকতর তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে এবং কোনো কোনো তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করেছেন। আশা রাখছি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এদের মূলহোতাদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে। ১৪৪ ধারা জারি ছিল গাইবান্ধার পরীক্ষা কেন্দ্র এলাকায় এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

ওইদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা এবং অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। আগেও গাইবান্ধায় ধরা পড়েছিলো ডিভাইস চক্র সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ডিভাইস জালিয়াতির অভিযোগে ৩৮ জনকে আটক করেছিল র্যাব। সে সময় পরীক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া তারা।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে থেকে অসাদুপায় অবলম্বনকারী ৩২ জন পরীক্ষার্থী ও এই চক্রের হোতা মারুফ, মুন্না, সোহেল, নজরুল ও সোহাগসহ মোট ৩৮ জনকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে ২২ টি মাস্টার কার্ড, ১৯ টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ১৬ টি মোবাইল, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়। চক্রের ওই ৫ সদস্যের মধ্যে সোহেল নামে এক সদস্য ডিভাইস সংগ্রহ ও বিতরণ করেন, নজরুল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করতেন এবং মারুফ ও মুন্না বাহির থেকে প্রশ্নপত্র সমাধান করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলো র্যাব।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৩ জন এবং হিসাব সহকারী পদে ৩ জন সহ মোট ১৬ জন তৃতীয় শ্রেণিরজনবল নিয়োগ পরিক্ষায় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ব্যবহার এবং বদলি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে মো. ছাইমুন ইসলাম (২৫), শাহ সুলতান (৩২), আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাশেদ আহম্মেদ (২৪) নামের চারজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে ছাইমুন ইসলামের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পাওয়া গেছে এবং আসাদুজ্জামান আসাদ (প্রক্সি) মূল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

এছাড়া শাহ সুলতান ও রাশেদ আহমেদ নামে অপর দুজনকে সন্দেহ ভাজন হিসেবে আটক করেছিলো সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর একই কার্যালয়ে রাজস্ব শাখার চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক (২০ তম গ্রেড) ৫৫টি শূণ্য পদের জনবল নিয়োগের লিখিত পরিক্ষা ডিভাইসসহ এক নারী পরিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। মামলার তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে গাইবান্ধার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ‘পরীক্ষা চলাকালে আটক হওয়া আসামীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে হওয়া সদর থানার মামলাটি আমরা তদন্ত করছি।’ তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতায় আমরা বেশকিছু তথ্য পেয়েছি । সংঘবদ্ধ চক্রটি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করে ডিভাইস সরবরাহ, প্রশ্ন সমাধান ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিল।

যা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং অধিকতর তদন্তের জন্য আমরা আদালতে ২৬ আসামীর ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি। আগামী ১৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এসময় তিনি পুরো চক্রকে সনাক্ত, আইনে সোপর্দ এবং পলাতক ৩ আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে জানান।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© 2026 Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version