লোকমার আহমদ, সিলেট:
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের শতবর্ষী খেজুর গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে মাজার এলাকা পরিদর্শন করে গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমে খেজুর গাছ কাটার খবর প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।
এরপর বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবারের পরিদর্শনে কমিটি মাজার প্রাঙ্গণে অন্তত ছয়টি খেজুর গাছ কাটা হয়েছে বলে দেখতে পায়। তদন্ত কমিটির সদস্য আনোয়ারুল কাদির জানান, শাহজালাল (রহ.) মাজার একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানে যেকোনো ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি ছিল। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাজার এলাকায় সব ধরনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে কোনো গাছ কাটা যাবে না।
কাটা গাছগুলোর গুঁড়ি প্রশাসনের জিম্মায় জব্দ রাখা হয়েছে। মাজার মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান মসজিদ ভেঙে নতুন ও আধুনিক মসজিদ নির্মাণের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে মুসল্লিদের ইবাদতের সুবিধার্থে নিচে একটি অস্থায়ী শেড বা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অস্থায়ী স্থাপনার জায়গা তৈরির জন্য পূর্বানুমতি ছাড়াই খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির কাছে মাজার মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ হাসান গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে উল্লেখ করে জানান, উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। তিনি আরও বলেন, কাটা গাছগুলো মাজার প্রাঙ্গণেই রাখা আছে, কোথাও সরানো হয়নি।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক সাদিকুর রহমান সাকী বলেন, শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রতিটি গাছ সিলেটের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। উন্নয়নের নামে আইন অমান্য করে এভাবে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


