কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল ইসলামের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ জানুয়ারি উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের কলসাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর পক্ষে দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। এসময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফুলের মালা পরিয়ে বিএনপিতে যোগদান করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ প্রচারণাকালে বলা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বে জামায়াতের কর্মী ছিলেন, যা স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
এছাড়া গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জামায়াতের দুজন কর্মীকে তাদের নিজস্ব দোকান থেকে তুলে এনে রাস্তায় মারধর করতে করতে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে গুরুতরভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী সার্জেন্ট মাহবুবুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। এতে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
এমতাবস্থায় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল ইসলাম জানান, যেহেতু মারামারির ঘটনা ঘটেছে, বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি নেত্রকোনার পুলিশ সুপার, কেন্দুয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, কেন্দুয়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার এবং কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।


