বিশেষ প্রতিনিধ:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ -১ আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন ধানের শীষের কান্ডারী।সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনিসুল হক নাকি, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,সাবেক তাহেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাওর বন্ধু খ্যাত কামরুজ্জামান কামরুল তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনায় ঘুরপাক খাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিকটতম প্রার্থীদের সমর্থনে সমর্থকরা বিভিন্ন তথ্য প্রচার করার ফলে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর সহ ৪ টি উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-১(সংসদীয়-২২৪)আসনটি গঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ -১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও তৃনমূল বিএনপির একাট্টা জনসমর্থন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল।তৃনমূল থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে প্রবীণ এবং তরুণদের চোখে সুনামগঞ্জ-১ এ তিনি একজন সচ্ছ ও কর্মী বান্দব রাজনীতিবিদ ও গরীবের নেতা হিসেবে পরিচিত।
সুনামগঞ্জ -১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় যে দৃশ্যপট দেখা যাচ্ছে, বিএনপির মনোনীত একাধিক প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূলে বিভেদ সৃষ্টি রয়েছে, যে যাই বলুক দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে দলীয় কোন্দল বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন সাধারণ ভোটারা।এই আসনে প্রাথমিক মনোনয়নে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করার পর থেকেই কামরুজ্জামান কামরুলের অনুসারীরা বিশেষ করে তৃনমূল বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন হয়ে লাগাতার প্রতিবাদ ও কামরুজ্জামান কামরুল কে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানাতে থাকে।তৃনমূল বিএনপি সহ বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত দাবীর পরিপেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল কে দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়ন দেওয়া হয়।তবে গরীবের বন্দু খ্যাত কামরুজ্জামান কামরুল কে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ ২২৪ সংসদীয় আসনে তৃনমূল বিএনপি থেকে বিএনপির নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত হতে দেখা গিয়েছে।সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম নজীর হোসেনের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ-১আসনটি বিএনপির দুর্গ বা ঘাঁটিতে পরিনিত হলেও বিএনপির এই প্রবীন নেতার মৃত্যুতে চিরপ্রতিদন্ধী আনিসুল ও কামরুল গ্রুপ কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই উত্তপ্ত হচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক মাঠ।এই দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে চলছে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি রাজনৈতিক লড়াই।তবে বিএনপির এই দুই গ্রুপের তীব্র প্রতিযোগিতা ও প্রতিহিংসায় নিরবে ভোটের মাঠে কাজ করছে বিএনপির বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।তবে এই আসনের ভোটার,রাজনৈতিক বিশ্লেষক সহ সর্বসাধারণের চোখ এখন বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে।কে হচ্ছে এই আসনে সর্বশেষ ধানের শীষের কান্ডারী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির মনোনীত এই দুই প্রার্থী উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যপক নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালালেও একটি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তৃনমুল থেকে উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের।তবে তৃনমুল বিএনপি সহ উপজেলা বিএনপির অধিকাংশের প্রত্যাশা হাওর বন্ধু খ্যাত কামরুজ্জামান কামরুল ব্যতিত অন্য কাউকে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মনোনীত করলে বিএনপির ভোটের মাঠে ব্যাপক প্রভাব পরবে।কারন হিসেবে তারা উল্লেখ করছে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপির দুর্দিনের গরীবের নেতা হাওর বন্ধু কামরুজ্জামান কামরুল তাদের পাশে দাড়িয়েছে।
বিএনপির দুর্দীনে জেল,জুলুম,হামলা,মামলার তোয়াক্কা না করে জেলা, উপজেলা ও তৃনমূল বিএনপিকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন সহ কেন্দ্র ঘোষিত প্রত্যেকটি কর্মসূচি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।অথচ দল যদি তৃনমূল ও রাজপথের নির্যাতিত নেতা কে মনোনয়ন বঞ্চিত করে তৃনমূলের প্রত্যাশা পূরনে ব্যার্থ হয় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে ব্যপক পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।
বিভিন্ন উপজেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন,সত্যি কথা বলতে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন সাহেবের সময় ও তার মৃত্যুর পর থেকে তৃনমূল সহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বিএনপির হাল একমাত্র কামরুলই ধরে রেখেছে।বিএনপির হাইকমান্ড, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে টিকে থাকার অস্তিত্বে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীরা সরাসরি মুখ না খুললেও গোপনে কামরুল ও আনিসুল হক কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেই বলে জানা গিয়েছে।তবে ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃনমূল বিএনপির ত্যাগী, নির্যাতিত ও বিএনপির অধিকাংশ কর্মীসমর্থকরা জোরালো কন্ঠে দাবী তুলছে কামরুল ব্যতিত অন্য কাউকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দিলে দল ও দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি আস্তা হারাবে তৃনমূল বিএনপি।
তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হকের পক্ষেও তার অনুসারীরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা সহ তাদের পছন্দনীয় নেতা আনিসুল হককেই চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবী জানিয়ে আসছে।


