গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
টানা ২২ দিনের শীতকালীন অবকাশ শেষে আজ থেকে নতুন শিক্ষা বর্ষের একাডেমিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে ব্যাগ কাঁধে, চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষগুলো যেন ফিরে পেয়েছে হারানো প্রাণ। সকালের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষাঙ্গনে ফিরে আসে পরিচিত কোলাহল।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ ছুটির কারণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজ এক নিমিষেই মিলিয়ে যায় হাসি, গল্প আর নতুন বছরের প্রত্যাশায়। নতুন বই হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আলাদা এক দীপ্তি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার এস কে এস স্কুল এন্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা রশ্নি ছোঁয়া জানায়,“অনেক দিন পর স্কুলে এসে খুব ভালো লাগছে।
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় মনটাই ভরে গেছে। নতুন ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করার জন্য এবার শুরু থেকেই মন দিয়ে পড়ব।” আরিফ খাঁ বাসুদেব পুর সরকারি প্রাথমিক প্র বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি বলে, “স্কুল বন্ধ থাকায় স্যার-ম্যাডামদের খুব মিস করেছি। আজ আবার ক্লাস শুরু হয়েছে, তাই খুব খুশি।” এদিকে শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুপ্রাণিত। রহমতপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন মিয়া বলেন, “দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিনটা আমরা আনন্দঘন পরিবেশে শুরু করেছি। পড়াশোনার চাপ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সদর উপজেলার আর ইউ বি এস মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক মিলন জানান,” ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২১ দিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল । এটি শিক্ষার্থীদের শীতকালীন অবকাশ হিসেবে গণ্য হয় । এই বিরতিতে পাঠ্যসূচিতে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। তবে পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত ক্লাস, পুনরালোচনা ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা দ্রুত ঘাটতি পুষিয়ে নেব।”
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে জেলার প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই ১ জানুয়ারির আগেই পৌঁছে দেয়া হয়েছে তাই যথাসময়ে তাদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ের বই এখনো হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা এদিকে অভিভাবকরাও বিদ্যালয় খোলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানান, দীর্ঘ ছুটিতে শিশুদের পড়াশোনার রুটিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিদ্যালয় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবার নিয়মের মধ্যে ফিরবে বলে তারা আশাবাদী।


