কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় প্রথমবারের মতো এবার ঈদ উদযাপিত হলো নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ্এনও) বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিহীন। ঈদের দুই দিন আগে স্টেশন ত্যাগ করেন ইউএনও। ফলে এবার ঈদের উপজেলা প্রশাসনে দেখা দিয়েছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অভাব।
এদিকে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানেন ইউএনও কর্মস্থলে আছেন। অন্যদিকে ইউএনও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত জানান তিনি ছুটিতে ছিলেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার পরে কর্ম এলাকায় ফিরে আসেন ইউএনও। এই কয়েক দিন উপজেলা প্রশাসনে ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের শূণ্যতা।
নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এর অনুপস্থিতে সহকারি কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) দায়িত্বপালন করে থাকেন। ঈদের আগে গত ২৭ মার্চ এসিল্যান্ড মো. শহিদুল ইসলাম বদলী জনিত কারণে কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান। উপজেলার প্রশাসনের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে এবার ঈদ উদযাপিত হয়েছে।
তবে গত কয়েকদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোন বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের অভাব দেখা দিতো। এমন পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। সাধারণত ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাহী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট স্টেশনে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবার সেটির ব্যতিক্রম ঘটেছে।”
এই অনুপস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনিক শূন্যতা থাকা সত্ত্বেও ঈদ শান্তিপূর্ণভাবেই উদযাপিত হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, এটি দায়িত্বশীলতার অভাবের একটি দৃষ্টান্ত।
কলমাকান্দার সাধারণ জনগণ জানতে চায়, এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন স্টেশন ছাড়লেন? প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন? প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে ইউএনও ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাতের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। পরে বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করলে “স্বামী অসুস্থ থাকায় ছুটিতে ছিলেন” জানান তিনি।
এ বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাসকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, “ইউএনও স্টেশনেই আছেন। আমার অনুমতি ছাড়া স্টেশন লিভ নিতে পারেন না। ই্উএনও কোথায় গিয়েছে তা আমার জানা নাই। তবে সে (ই্উএনও) কোথায় গেলে তো আমাকে বলে যেতো। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”