দুই সন্তানের জননী মোসাঃ ফাহিমা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হবার পর বাবার বাড়িতে আছেন। বর্তমানে তিনি জীবিত থাকলেও এনআইডি কার্ডে তিনি মৃত। এমনটাই করেছেন তার প্রাক্তন স্বামী স্কুল শিক্ষক ইখতিয়ার উদ্দিন মল্লিক। আর এ কাজে স্বাক্ষী দেন তার আপন ভাই। এমনটাই ঘটেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। অভিযুক্ত ইখতিয়ার উদ্দিন মল্লিক ২৯নং এনায়েতনগর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, ২০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কালকিনি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বিএম সিরাজুল ইসলাম এর মেয়ে মোসাঃ ফাহিমা সাথে একই উপজেলার মৃত লাল মিয়া মল্লিক এর ছেলে ইখতিয়ার উদ্দিন মল্লিক। বিবাহের ১০ বছরের মাথায় ২০১২ সালে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অত্যাচার করলে স্ত্রী ফাহিমা মাদারীপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। একবছর পরে উভয়পক্ষের লোকজন মিলে মীমাংসা করে দেন। এরপরেও পারিবারিক কলহ ও অত্যাচার বাড়লে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়। তারেই ৭মাসের মাথায় প্রাক্তন স্বামী তার স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে ভোট কর্তনের জন্য উপজেলা নির্বাচন কমিশনারের অফিসে একটি আবেদন করে এনআইডি কার্ডে মৃত দেখায়। আর এই আবেদনে স্বাক্ষী দেন তার আপন ভাই। এ ঘটনার সঠিক বিচার চান ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী মোসাঃ ফাহিমা বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমাকে অত্যাচার করেছে। এখন আবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমি জীবিত থাকা অবস্থায় এনআইডি কার্ডে আমাকে মৃত করেছে। আমি এর বিচার চাই।
মুঠোফোনে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক ইখতিয়ারউদ্দিন মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, আপনার মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম। এ ধরেন কাজ আসলেই অন্যান্যরা। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
কালকিনি উপজেলা নির্বাচন অফিসার বলেন, আমরা কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। ভুক্তভোগী থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



