রবিবার, অক্টোবর ১১

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এসেছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার জটিলতা। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সাধারণ কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদ থেকে সরানো যায় না। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

ভারতের সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের বিষয়ে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে কমিশনের প্রধানকে সহজে অপসারণের সুযোগ বন্ধ রাখা।

কেন এত কঠিন অপসারণ?

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ থাকতে হবে। শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধ, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ কিংবা বিরোধী দলগুলোর দাবি অপসারণের জন্য যথেষ্ট নয়। অভিযোগের পক্ষে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এগোতে হয়।

প্রথমে ভারতের সংসদের যেকোনো একটি কক্ষে অপসারণের প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিতে হয়। লোকসভায় অন্তত ১০০ জন অথবা রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষরসহ নোটিশ জমা দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষের স্পিকার বা চেয়ারম্যান নোটিশ গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

নোটিশ গৃহীত হলে অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সংসদের উভয় কক্ষে অপসারণের প্রস্তাব পাস হতে হবে। শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই চলবে না; প্রতিটি কক্ষে মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।

এরপর সংসদের উভয় কক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির কাছে অপসারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমেই অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজনৈতিক দাবি থাকলেই কি অপসারণ সম্ভব?

না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারও একক সিদ্ধান্তে তাঁকে অপসারণ করতে পারে না। একইভাবে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক চাপ বা পদত্যাগের দাবি নিজে থেকে তাঁকে পদচ্যুত করার আইনি ভিত্তি তৈরি করে না।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো, নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাব বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারে। তবে গুরুতর অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে অপসারণের সাংবিধানিক পথ খোলা রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাই মূল প্রশ্ন শুধু তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে, তা নয়; বরং সেই অভিযোগ সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে কি না এবং সংসদের উভয় কক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া সম্ভব কি না। এই কঠোর শর্তগুলোর কারণেই ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন।

 

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version