নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ। কনের বাড়িতে বরযাত্রীদের আপ্যায়নের কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হতে না হতেই সেই আনন্দ রূপ নিল চরম আতঙ্কে। বিয়ের ভোজে অংশ নিয়ে খাবার খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় বরসহ অন্তত ২০ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরআগে গতকাল রবিবার জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মানসা গ্রামে কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মনিরুল ইসলামের সাথে মোহনগঞ্জ উপজেলার মানসা গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন ধার্য ছিল গতকাল রবিবার। প্রথা অনুযায়ী বর মনিরুল ইসলাম তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রী হিসেবে কনের বাড়িতে যান। বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে যথারীতি ভোজে অংশ নেন বর ও বরযাত্রীরা।
খাবার পর্ব শেষে নিজ এলাকা আটপাড়ায় ফেরার পথে এবং বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বরসহ প্রায় ২০ জন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দঘন বাড়িটিতে কান্নাকাটি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অবস্থা বেগতিক দেখে স্বজনরা দ্রুত তাদের আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শুনই গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ জানান, “বিয়ের দাওয়াত খেয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবারই বমি আর পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে আমরা দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
এদিকে এমন আকস্মিক অসুস্থতার ঘটনায় বরপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বরপক্ষের অভিযোগ, কনের বাড়িতে দেওয়া ভোজের খাবারে কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হয়ে থাকতে পারে অথবা খাবারটি বাসি ও অস্বাস্থ্যকর ছিল। তবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে আটপাড়া ও মোহনগঞ্জ- উভয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের মতো বড় আয়োজনে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার পাল বলেন, “বমি ও পেটব্যথার মতো একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে বা খাবারের কোন উপাদানের কারণে এমনটা ঘটেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

