Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

হামের প্রাদুর্ভাব ও নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে আইসিডিডিআরবি

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব ও নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে আইসিডিডিআরবি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে, তার দপ্তরে এ বিষয়ে আজ সকালে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. জুবায়ের চিশতী এবং শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ মন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

এই সংকট উত্তরণে আইসিডিডিআরবির নিজস্ব উদ্ভাবন ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত আইসিডিডিআরবির গবেষণা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিটি প্রচলিত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী-যার প্রতিটি ইউনিটের নির্মাণ খরচ মাত্র ৩০০ টাকার মতো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এবং ইথিওপিয়ার গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সুপারিশকৃত সাধারণ অক্সিজেন পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে শিশুর প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম।

আইসিডিডিআরবির এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

এদিকে, আজ দুপুরে এই পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের ৩০টিরও বেশি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় ড. জুবায়ের চিশতী ‘বাবল সিপ্যাপের’ বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব ব্যাখ্যা করেন।

এ সময় অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান (পরিচালক আইসিএমএইচ মাতুয়াইল) তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফল অভিজ্ঞতা ও জীবন রক্ষাকারী দিকগুলো তুলে ধরেন।

মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল থেকে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের তত্ত্বাবধানে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসাইন মো. মইনুল আহসান সামগ্রিক কার্যক্রমের সমন্বয় করবেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে আইসিডিডিআরবি নিরলসভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের টিমের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

Exit mobile version