জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে অধিগ্রহণকৃত জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা ও লক্ষ্মীরচরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৬ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য আগেই প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। কিন্তু অধিগ্রহণকৃত সেই জমি থেকে স্থানীয় মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছিলেন না। এতে সেতুর নির্মাণকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অবশেষে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দারের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল নান্দিনা বাজার অংশে অভিযান শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহায়তা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা।
অভিযান প্রসঙ্গে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার গণমাধ্যমকে জানান, “ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কিন্তু অধিগ্রহণ করা জমি থেকে কিছুতেই স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছিলেন না পুরনো মালিকরা। সেতুর কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের স্বার্থেই আজ এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উচ্ছেদের ফলে এখন থেকে সেতু নির্মাণের কাজ আরো দ্রুত ও নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সেতুর নান্দিনা বাজার অংশে গড়ে ওঠা অন্তত ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ স্থাপনা এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। উচ্ছেদকৃত এসব স্থাপনার মধ্যে বহুতল মার্কেট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়িও রয়েছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এ অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ভেকু দিয়ে স্থাপনা ভাঙার কাজ চলাকালেই অনেক ব্যবসায়ী ও দোকানিকে তাড়াহুড়ো করে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় এই সেতু দ্রুত চালু হওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

