নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় স্কুলপড়ুয়া এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে নুর জামাল মিয়া (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গতকাল (সোমবার) রাত পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত নুর জামাল মিয়া ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর সম্পর্কে চাচাতো ভাই। সে বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ওই কিশোরের পরিবারকেও জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগীর বাবা। এর কিছুদিন পর, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে নুর জামাল নিজ বসতঘরে নিয়ে নাবালিকাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও ঘটনাটি জানাজানি হয় চলতি বছরের ৩ মার্চ। ওইদিন বিকেলে ভুক্তভোগী নাবালিকার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা ধর্ষণের ভয়াবহ বিষয়টি প্রকাশ পায়।
পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) এর সদর কোম্পানি ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযুক্ত কিশোরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে সিপিসি-২, র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) এর সহায়তায় হাটহাজারী থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানান, অভিযুক্ত কিশোর বর্তমানে পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। থানার একটি টিম তাকে নিয়ে আসার জন্য চট্টগ্রামে রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসামিকে নিয়ে আসার পরপরই তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

