নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড (ইঞ্জিন চালিত স্টিলের নৌকা) বোঝাই আনুমানিক চার হাজার পাঁচশো ঘনফুট ভিটি বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার বাইশদার গ্রামের আওয়াল (২২), আজিজুল (২৫), কাজল (৩২), ফয়েজ উদ্দিন (৫০) এবং লাক মিয়া (২৮)।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালের দিকে আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা শারমিন এতথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে গতকাল শনিবার উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের দেওগাও মৌজার অন্তর্গত খিলাপাড়া ঘাট এলাকায় পুলিশের সহায়তায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্র খিলাপাড়া ঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডটি পূর্ণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আটপাড়া থানা পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় নদী থেকে বালু বোঝাই করা অবস্থায় ওই পাঁচ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় আটককৃত ব্যক্তিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, তারা কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে বালু কিনে এনেছেন। কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা শারমিন তাদের কাছে বালু ক্রয়ের বৈধ রশিদ ও চালান দেখতে চাইলে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। তাদের দেওয়া ব্যাখা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সন্তোষজনক না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা শারমিন জানান, অবৈধভাবে উত্তোলিত আনুমানিক চার হাজার পাঁচশো ঘনফুট ভিটি বালু ও বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারার্থে প্রেরণের জন্য আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ বালু ও বাল্কহেডটি পুলিশের জিম্মায় সংরক্ষিত থাকবে।
এ বিষয়ে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম জানান, “আটককৃত পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মামলা দায়ের শেষে তাদেরকে আজ (রবিবার) আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ওই এলাকার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের এমন ত্বরিত পদক্ষেপে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
