Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের চকবালু গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নওগাঁ শহরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ইসারতুল্যা, দুলাল হোসেন সরদার, মোশারফ হোসেন ও আনিছার রহমান নামের চার ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মান্দা উপজেলার চকচোয়ার গ্রামের ইসারতুল্যা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের উপজেলার চকচোয়ার গ্রামের ইসারতুল্যা ও তাঁর ভাই মোশারফ, মিজানুর রহমান ও দুরুল হুদা, তাঁর বোন হাজেরা, কহিনুর ও লুৎফাসহ ১১৫ জন ব্যক্তি পৈত্রিক সূত্রে উপজেলার চকবালু মৌজায় ৯ একর ৪৪ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসতেছে।

ওই জমি নিয়ে কশব ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল গফুরের স্ত্রী রেজিয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদুল, মাহমুদ মন্ডল, আমিনুল, গোলাম, হাবিবুর ও মেয়ে দেলোরা, নার্গিস ও পারুলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি ওই সম্পত্তি তাঁদের বলে দাবি করে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিবদমান ওই সম্পত্তিতে প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা কোনো দিন দখল নেয়নি এবং তাঁদের নামে আদালত কর্তৃক কোনো স্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠা আদেশ না থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে তাঁরা দাবি করেন ওই সম্পত্তির মালিক তাঁরা এবং জমি দখলের চেষ্টা করেন।

তাঁরা জমির মালিকানা দাবি করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরের নামে ওই জমির সিএস ও আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। পরে ইসারতুল্যা বাদী হয়ে ২০২৩ সালে নওগাঁর মান্দা সহকারী জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। ইসারতুল্যা আরও বলেন, আমিনুল, জাহিদুল, মাহমুদ ম-ল ও তাঁদের লোকজন জমি জবরদখল করার চেষ্টা করলে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি দুলাল সরদার নামে এক ব্যক্তি মান্দা থানায় অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু সমাধান হয়নি। আমিনুল, জাহিদুল, মাহমুদ ম-ল ও তাঁদের লোকজন বিবদমান জমিতে ইসারতুল্যাদের লাগানো ইরিবোরো ধানের চারা উপড়ে ফেলে। চলতি বছরের ১১ মার্চ দিবাগত রাত ৮টার দিকে জাহিদুল, আমিনুল, মাহমুদ ম-লের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন বিবদমান জমিতে গিয়ে ইরি-বোরো ধানের চারা নষ্ট করা শুরু করে। তৎক্ষণাৎ থানা-পুলিশ ও ৯৯৯-এ কল করেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে ইসারতুল্যা ও তাঁদের লোকজন গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রতিরোধ করে তুললে তাঁরা একপর্যায়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা পুলিশ কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি। উল্টো পুলিশ ১২ মার্চ রাতে ইসারতুল্যার ভাই দুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে দুরুল হুদাকে আদালতে নেওয়ার পর জানতে পারেন, দুরুল হুদা, ইসারতুল্যাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে। মান্দা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে ইসারতুল্যা অভিযোগ করেন, ‘আমাদের কাছে মান্দা থানা-পুলিশের আচরণ পক্ষপাতমূলক মনে হচ্ছে। তাঁরা সব সময় প্রতিপক্ষের ইন্ধনে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে।

জমি নিয়ে বিরোধ জেরে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমরা নাকি প্রতিপক্ষের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কাগজপত্র জোর না থাকায় সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানির চেষ্টা করছে। মামলায় আমিসহ এজহারভুক্ত সব আসামি জামিনে আছি।

কিন্তু তারপরেও থানা থেকে প্রায় গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আরও নতুন মামলা দেওয়া হবে বলে আগাম বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশ দরিদ্র। থানা-পুলিশের ভয়ে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে পারছেন না।’

এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য চাঁদাবাজির মামলার বাদী আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার কল করেও রিসিভ না হওয়ায় তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা দাবি করেন বলেন, ‘পুলিশ কাউকে হয়রানি করেনি। যাঁরা অভিযোগ করেছে তাঁরা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। মামলায় আসামি হয়ে জামিন না নিলে পুলিশ তাঁদের খোঁজবেই।’

Exit mobile version