জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর শহরের পিটিআই মোড়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকার পরও গ্রাহকদের কাছে তা বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ‘মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজ’ নামের এক তেলের ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকদের সড়ক অবরোধের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে নিরসন ঘটে।
শনিবার সকাল থেকেই জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য জামালপুর শহরের পিটিআই মোড় এলাকায় মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে ভিড় জমাতে থাকেন শত শত মোটরসাইকেল চালক। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করার পরও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে কোনো পেট্রোল মজুত নেই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জ্বালানি না পেয়ে চালকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালকেরা একত্রিত হয়ে ওই এলাকার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, যার ফলে যানজট ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জামালপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে প্রথমে বিক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকদের শান্ত করেন এবং এরপর মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজের ভেতরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তল্লাশি চালান।
সরেজমিনে তল্লাশি চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে লুকানো অবস্থায় ১২টি ড্রাম ভর্তি প্রায় দুই হাজার পাঁচশো লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে গ্রাহকদের হয়রানি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ হাতেনাতে পেয়ে যায় অভিযানিক দল।
মজুতদারি এবং ভোক্তাদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসাথে মজুতকৃত সম্পূর্ণ তেল সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে দ্রুত বিক্রির কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোকান মালিক দাবি করেছেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভিড় দেখে আতঙ্কের কারণে তিনি তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মজুত থাকা তেল গ্রাহকদের মাঝে বিক্রি করা হচ্ছে।”
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ বলেন, “দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি ড্রামে প্রায় দুই হাজার পাঁচশো লিটার তেলের মজুত পাওয়া গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি মজুত থাকা ওই তেল তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রির জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”
প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মোটরসাইকেল চালকদের কাছে পেট্রোল বিক্রি শুরু হয়েছে। অবরুদ্ধ সড়কটিও দ্রুত যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

