নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ পরবর্তী আনন্দঘন মুহূর্তে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে ঝরলো হায়াতুল্লাহ (৪৮) নামের এক ব্যক্তির তাজা প্রাণ। মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের হীরাকান্দা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে হায়াতুল্লাহ তার পুরো পরিবার নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে কলমাকান্দা থেকে নেত্রকোনা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে হীরাকান্দা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ ভ্যান তাদের সিএনজিটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই হায়াতুল্লাহর ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় সিএনজিতে থাকা তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার (৩৮), মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (১২) এবং ছেলে সালমান (১০) গুরুতর আঘাত পান। তবে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাঝেও ভাগ্যক্রমে এবং অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকে হায়াতুল্লাহর বড় মেয়ে রুকাইয়া আক্তার (১৭) এবং দুই বছরের কোলের শিশু জুয়াইরা।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু হায়াতুল্লাহর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈদের ছুটিতে পরিবারের সাথে কাটানো আনন্দঘন সময়টি মুহূর্তেই এমন বিষাদে রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। রাস্তার মাঝে পড়ে রইল একটি পরিবারের একরাশ আর্তনাদ। হায়াতুল্লাহর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে হীরাকান্দা ও তার নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার জন্য বেপরোয়া যান চলাচল এবং চালকদের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনারন মৃত্যুর মিছিলে আর কত প্রাণ ঝরবে, প্রশাসনের কাছে এমন প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের।


