শেখ শামীম: নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তার নিজ জেলা নেত্রকোনাসহ কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম নেত্রকোনা-১ আসন থেকে কেউ জাতীয় সংসদের এত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন। যা পুরো এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের জনপ্রতিনিধিত্বের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর একসময় কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার দাদা ও নানাও স্থানীয় পঞ্চায়েতের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাবার সেই তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতায় ছেলে আজ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার- এ বিষয়টি স্থানীয়দের আবেগে নাড়া দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চান মিয়া উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “কায়সার কামাল অত্যন্ত মানবিক ও জনবান্ধব একজন মানুষ। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। স্বাধীনতার পর প্রথম আমাদের আসন থেকে কেউ জাতীয় সংসদের উপ-স্পিকার হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কায়সার কামাল এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনের সময় তিনি নেত্রকোনা-১ আসনের সব মানুষের দলমত নির্বিশেষে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি সচেষ্ট।
ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি ও থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, অস্থায়ী সেতু, ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশান সংস্কার এবং গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণে তার অবদান স্থানীয়দের মুখে মুখে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
নেত্রকোনা-১ আসনটি সমতল, পাহাড়ি ও আংশিক হাওড় অঞ্চল নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধ, হাজং বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, হাতিখেদা আন্দোলন এবং ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মতো নানা ঐতিহাসিক ঘটনার নীরব সাক্ষী এ জনপদ। এমন একটি সংগ্রামী এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে কায়সার কামালের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি স্থানীয়দের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কায়সার কামাল। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় কায়সার কামাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের মতো একটি নিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি দলটির সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।