ফজলে এলাহী মাকাম: নব্বইয়ের দশক থেকে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন আর বন্যায় নিঃস্ব জামালপুরের লাখো মানুষ। প্রতি বছরই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে সাধারণ মানুষ। তবে যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মিত হলেই জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী- এই চার উপজেলার অন্তত তিন লাখ মানুষ বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে।
জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং ইসলামপুরের চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় কোনো বাঁধ নেই। এই অরক্ষিত অংশ দিয়েই প্রতিবছর বন্যার পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করে।
যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্থায়ী বাঁধের দুই পাশে এই ছয় কিলোমিটার অংশ ফাঁকা থাকায় বর্ষায় পানি ফুলে ফেঁপে ওঠে। প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যা শেষে পানি নেমে গেলেও রেখে যায় ক্ষতের চিহ্ন, সারা বছরই মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের।

স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই চার উপজেলার অন্তত ৮০টি গ্রাম ও পৌর শহরের ১০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হারেস আলী বলেন, “যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ছয় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে চার উপজেলার অন্তত ৮০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। কৃষকরা নিশ্চিন্তে তিনটি ফসল ঘরে তুলতে পারবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ওপর শত কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ করা হলেও এই ছয় কিলোমিটার এলাকা আজও অরক্ষিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে কাজ হলেও গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া অংশটি বাদ পড়ে যায়।
ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দের অভাবেই ওই নির্দিষ্ট অংশগুলোতে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান বলেন, “নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেলেও যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে ওঠে। ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।”
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন ইসলামপুর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি বলেন, “দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে জামালপুরের লাখো মানুষ।
———————————-
জামালপুরে যমুনা বাধ নির্মানে রক্ষা পাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩ লাখ মানুষ
নব্বয়ের দশক থেকে অব্যহত যমুনা নদীর ভাঙ্গনে জামালপুরে নিঃশ্ব হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। জামালপুরের ইসলামপুর , দেওয়ানগঞ্জ ,মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার যমুনার স্থায়ী বাঁধ নির্মান হলেই বন্যায় রক্ষা পাবে চার উপজেলার ৩লাখ মানুষ। ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ৬ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয় ইসলামপুর,দেওয়ানগঞ্জ ,মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ি উপজেলা।
এতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। জানা যায়, নদীভাঙন থেকে রক্ষা কবজ যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ওপর স্থায়ী বাঁধ হলেও দুই পাশে বাকী থাকায় যমুনার ফুঁসে উঠা পানি পাইলিংয়ের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এর ফলে পানি প্রবল স্রোতে বিস্তীর্র্ণ অঞ্চলে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ড ও ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বন্যা চলে গেলেও ক্ষত নিয়ে সারা বছর মানবেতর জীবন যাপন করে ৪ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষেরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ৬ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ বাকী অংশটুকু নির্মাণ করা হলে বন্যার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তা সেতু-কালভার্টসহ তিন ফসলি জমি ও উপজেলার মানুষ।
বিগত সরকার সাতশো কোটি টাকা ব্যয় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপর দিয়ে শত কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ করলেও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা আজও অরক্ষিত রয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ২০টিগ্রাম এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের আরও প্রায় ৩০টি গ্রাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাপরিষদ,স্টেশনসহ পৌর শহরের ১০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়। প্রতি বছর অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ি থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্তবন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়ে গেছে।
নোয়ারপাড়া ইউনিয়েনের হারেস আলী বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ছয় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে ৪ উপজেলার অন্তত ৮০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকের তিনটি ফসল ঘরে উঠবে।
ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বরাদ্দের অভাবে গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত ও বালুগ্রাম থেকে ইসলামপুর সীমানা পর্যন্ত এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান বলেন, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তবে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে ওঠে, ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।
ইসলামপুর আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপরোক্ত তথ্যগুলো অনলাইন পোর্টালের জন্য নিউজ এবং সংক্ষিপ্ত শিরোনাম