ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এধরণের ভয়াবহ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ, শোকাভিভূত ও আতংকিত। এধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভয়ংকর ইঙ্গিতবাহী।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আসমা সাদিয়া রুনা অত্যন্ত সজ্জন ও সরলপ্রাণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। বিভাগের প্রতি তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ঐকান্তিক নিষ্ঠা ক্যাম্পাসে তাকে একজন কর্তব্যপরায়ণ শিক্ষক রূপেই পরিচিতি প্রদান করেছিল।
আরো বলা হয়, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও এর পেছনে অন্যকোনো সহযোগী থাকলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যথাযথ তদন্ত ও যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সাজিদ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা না হতেই একজন শিক্ষিকা কর্মরত অবস্থায় খুন হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাসে যে নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তার নিরসন না হলে স্বাভাবিক কর্ম পরিচালনা সম্ভব হবে না। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি সকলের জন্য একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
