নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা সদর উপজেলার এলজিইডি’র (LGED) আওতাধীন একটি রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও চরম নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জামতলা বাজার থেকে শিমুলকান্দি বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির সংস্কার কাজে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন পর রাস্তাটির কাজ শুরু হলেও, ঠিকাদারের এমন দুর্নীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য ছিল। সম্প্রতি রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) সরেজমিনে এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় নতুন এবং মানসম্মত ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও, অত্যন্ত নিম্নমানের (দুই বা তিন নম্বর) ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। হাত দিয়ে চাপ দিলেই এসব ইট ভেঙে মাটির মতো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার পুরনো কার্পেটিং এবং এজিং এর ইট তুলে সেগুলোই ভেঙে পুনরায় রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। খোয়ার সাথে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালু দেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে ভারী যানবাহন চললে এক মাসও এই রাস্তা টিকবে না। তারা দ্রুত সংস্কার কাজ বন্ধ করে শিডিউল অনুযায়ী সঠিক মানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
এই রাস্তাটির সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন্দুয়ার ‘মেসার্স মুন্নি মেশিনারিজ’ নামক প্রতিষ্ঠানটি। এর স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফার কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “এটি একটি রিপেয়ারিং (সংস্কার) কাজ। আমরা শিডিউল ও এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করছি। এস্টিমেটেই রাস্তার পুরনো এজিং ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা আছে।”
তবে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় নিম্নমানের ইটের টুকরো দেখানো হলে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন এবং এ বিষয়ে স্থানীয় এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এই রাস্তার এস্টিমেটে পূর্ববর্তী এজিং ভেঙে খোয়া করার কথা উল্লেখ আছে। এরপর সেখানে ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং করা হবে। তবে, বাইরে থেকে যদি কোনো নিম্নমানের খোয়া এনে ব্যবহার করা হয়, তবে আমরা তা অপসারণের ব্যবস্থা নেব।”
সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও চিত্র ও খোয়ার স্যাম্পল দেখালে অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপজেলা প্রকৌশলী
জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির কাজে আসলেই কোনো পরিবর্তন আসে কি না, নাকি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ শেষ করা হয়- এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় জনগণ।
