Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

সুসং সরকারি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বনাম রাজনৈতিক গর্জন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুসং সরকারি কলেজে ২য় বর্ষের সমাপনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন ভিন্ন কথা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকেই কলেজের মাঠে লোকজনের সমাগম শুরু হয়, যা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রতিষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত অভ্যন্তরীণ দুইধাপে পরীক্ষা (টেস্ট পরীক্ষা) চলছিল।

কিন্তু, দুপুর ১১টার পর থেকেই সমাবেশের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ কলেজ মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। পরীক্ষার্থীরা যখন শ্রেণীকক্ষে পরীক্ষায় ব্যস্ত, তখন মাঠের শোরগোল ও লোকজনের উপস্থিতি স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সুসং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সমাবেশের জন্য তিনি কোনো অনুমতি দেননি। তার দাবি, আয়োজকরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

এদিকে দুপুর ১২টা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের জোটে শীর্ষস্থানীয় নেতা খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হকের সমাবেশ শুরু করার কথা প্রচার করা হয়েছে ঐক্যের জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানী’র পক্ষ থেকে। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই লোকজন মাঠে ভিড় করতে শুরু করেন।

নাম প্রকাশে এক অভিভাবক বলেন, এর আগেও ওই কলেজ মিলনায়তনে রাজনৈতিক সমাবেশ করার অনুমোতি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজকে আবার কলেজের টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই রাজনৈতিক দলের সমাবেশের অনুমোতি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমরা এমনটা আশা করিনি। আজকের টেস্ট পরীক্ষার রিজাল্ট খারাপ হলে এর দায়ভার কলেজ কতৃপক্ষেই নিতে হবে।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুরের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ই্উএনও আফরোজা আফসানা বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ চলতে পারে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বিকেল ৩টা থেকে মাঠে সমাবেশ হলে তাদের কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। নির্ধারিত সময়ের আগে মাঠে জনসমাগম হয়ে থাকলে বিষয়টি দেখে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলাকালীন এমন রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

Exit mobile version