কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বৈষম্যহীন ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও ৭ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিন দিনব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রথম দিন পালিত হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর কেন্দুয়া উপজেলা শাখা।
সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে পরিষদের দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।
বলাই শিমুল এলাকা থেকে আসা সেবাপ্রার্থী নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ১০টায় জরুরি কাজে এসেছি। এখন ১১টা বাজে, কিন্তু কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না।”
বিক্ষোভ চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ ৮ম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ এক দশকে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বাড়লেও বেতন বাড়েনি। ফলে সরকারি কর্মচারীরা পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, কেন্দুয়া উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আজহার আহম্মেদ বলেন, “প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলে গ্রেড বৈষম্য দূর করার সুপারিশ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকার গেজেট প্রকাশ করছে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দ্রুত দাবি না মানলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
আন্দোলনরত কর্মচারীরা মূলত ৭টি দাবি নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অবিলম্বে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মহার্ঘ ভাতা প্রদান, বিদ্যমান গ্রেড বৈষম্য নিরসন ও বেতন কাঠামো সংস্কার।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হলে আগামীতে সারাদেশের মতো কেন্দুয়াতেও বৃহত্তর কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।


