কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সান্দিকোনা ইউনিয়নে মাদক (ইয়াবা) ব্যবসার আধিপত্য ও সুদের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মতি মিয়া (৫০), সেলিম (৩৬), পুষ্প (৫৩), তাসলিমা (৩০), চম্পা (৪০), ছোটন (৩০), কামাল (৪৫) ও মোবারক (১৬)। এদের মধ্যে মতি মিয়া গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সান্দিকোনা ইউনিয়নের সায়েতপুর বাজার চার রাস্তার মোড় ও চেংজেনা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চেংজেনা গ্রামের মো. তোতা মিয়ার ছেলে সুনু মিয়া ও নেওয়াজ নবাব আলী মিয়ার ছেলে হুমায়ুন মিয়া তারা আপন চাচাতো ভাই। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মাদক কেনাবেচার আধিপত্য ও সুদের টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উভয় পক্ষকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে সায়েতপুর চার রাস্তার মোড়ে হুমায়ুনের বাবা নবাব আলী মিয়াকে রাস্তায় আটক করে সুনু মিয়ার পক্ষের সামসু মিয়া ও দুলাল মিয়া মারধর করেন। পরে দুপুরের দিকে চেংজেনা গ্রামে উভয় পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পুরোনো বিরোধের কারণে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।


