নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের বদলি জনিত বিদায় উপলক্ষে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
গত তিন বছরে দায়িত্ব পালনকালে ইমদাদুল হক তালুকদার প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক সেবাবোধ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দুয়ার মানুষের কাছে একজন নন্দিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। অসহায় ও গরিব মানুষের জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা ছিল- এমন মন্তব্য করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, কেন্দুয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদারের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর উদ্যোগে জালাল মেলা পুনরুজ্জীবন, জালাল মঞ্চ স্থাপন, জালাল মঞ্চে ইসলামিক সংস্কৃতি বিকাশের জন্য মুক্ত প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি, বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ‘কিচ্ছা কাহিনী’ পুনঃউপস্থাপন। এসবই তাঁকে সংস্কৃতি মনস্ক প্রশাসক হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় আসীন করেছে।
ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলায় তাঁর উপস্থিতি ও সহায়তা কেন্দুয়ার ক্রীড়া উন্নয়নে অবদান রেখেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম উল হাসান চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস জামান রনি, জামায়াতে ইসলামী কেন্দুয়া উপজেলা আমীর সাদেকুর রহমান, কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন খোকন, কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাব সভাপতি বাবু সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি সালাহউদ্দিন সালামসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণ।
বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর মূলনীতি। কোনো সমস্যা জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, শিক্ষা, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই তাঁর কার্যকর নেতৃত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ধন্যবাদ বক্তব্যে ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, কেন্দুয়ার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাঁকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। উন্নয়ন ও মানবিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহব্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে ইউএনওর হাতে স্মারক ও ফুল তুলে দেন আয়োজকরা। কেন্দুয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লাইমুন হাসান ভূঁইয়া।
বিদায় উপলক্ষে কেন্দুয়ার মানুষ বলেন, “সৃষ্টি কখনো ধ্বংস হয় না; সৃষ্টি বেঁচে থাকে শ্রদ্ধা, সম্মান ও মূল্যবোধের মাধ্যমে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।”


