Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতার গুদামে সরকারি চাল, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি খোকন আহমেদের গুদাম থেকে ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান। এরআগে গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) আদালতের নির্দেশে কেন্দুয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ।

জানা যায়, জব্দকৃত আতব চালগুলো হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকার নির্ধারিত ছিল। তবে সেগুলো অবৈধভাবে কেন্দুয়ার আঠারো বাড়ি এলাকায় অবস্থিত খোকনের মালিকানাধীন মেসার্স নাহার ট্রেডার্সের গুদামে মজুত রাখা হয়। চালগুলো বিভিন্ন প্রকার বস্তায় রাখা ছিল, যার মধ্যে খাদ্য অধিদফতরের পাটের বস্তা, টিসিবির বস্তা, এবং নীল, সাদা ও হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তা ছিল।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মদনের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জামিউল ইসলাম সাকিবের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় খোকন আহমেদ চালগুলো গুদাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে একটি হ্যান্ডট্রলিসহ চাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গোডাউন ও ট্রলিসহ মোট ৩০৪ বস্তা আতব চাল জব্দ করা হয়। যার পরিমান প্রায় ১৩ হাজার ৮৫৪ কেজি এবং বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ১৬০ টাকা।

অভিযানের সময় খোকন আহমেদকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাকে সেদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সেনাবাহিনী জব্দ করা চাল কেন্দুয়া থানা পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ঘটনাটি আমার প্রশাসনিক এলাকার আওতাভুক্ত ছিল না। কেউ অফিসিয়ালি আমাকে জানায়নি। চালগুলো পুলিশের হেফাজতে থাকায় আমাদের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজা এড়াতে খোকন আহমেদ তার ডিলারশিপ লাইসেন্স অন্যের নামে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

Exit mobile version