Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

হাজতখানায় দুই যুবকের সঙ্গে গোপন বৈঠক পাপিয়ার

পুরান ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নারী হাজতখানায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে দুই যুবক গোপনে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নিচতলায় হাজতখানার ড্রেসিং রুমে এ বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই যুবক সটকে পড়েন। ঘটনা জানাজানি হলে হাজতখানার ইনচার্জ নৃপেন কুমার বিশ্বাস পাপিয়াসহ তিনজনকে সতর্ক করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া এভাবে কোনো আসামির সঙ্গে বৈঠক করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে বলেন, ওই দুজন আমাদের স্পেশাল গেস্ট।

এদিন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের কথা ছিল। সকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে এনে দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়। এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে দুই সাক্ষীও আদালতে হাজিরা দেন। তবে বিচারক অসুস্থ হওয়ায় এদিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। ভারপ্রাপ্ত বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৬ মার্চ ঠিক করেন। পরে আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বেলা ১টার দিকে হাজতখানার সামনে আদালতপাড়ার সাংবাদিকরা দেখতে পান, পাপিয়া নারী হাজতখানার ড্রেসিং রুমে একটি বেঞ্চে বসে আছেন। তাকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তার সামনে দুই যুবক বসে আছেন। পাপিয়া কফি পান করছেন আর তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। দরজায় তালা দিয়ে নারী পুলিশ সদস্যদের পাহারা দিতেও দেখা যায়। বিষয়টি টের পেয়ে হাজতখানার ইনচার্জ নৃপেন কুমার বিশ্বাস সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি পাপিয়াসহ তিনজনকে সতর্ক করেন। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে এসে নানা কথা বলে সাংবাদিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। তখন কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়াকে সেখান থেকে বের করে নারী হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর তার সঙ্গে বৈঠক করা দুই যুবক বের হন।

পাপিয়ার সঙ্গে ওই দুই যুবকের কী সম্পর্ক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে কেউ কোনো উত্তর দিতে চাননি। পরে একজন নিজেকে রাসেল বলে পরিচয় দিয়ে পাপিয়া তার বোন বলে দাবি করেন। কেমন ভাই, জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলে ওই স্থান ছেড়ে চলে যান। অপর যুবক এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি।

Exit mobile version